দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাসপোর্টের জন্য তদবির করছেন মোয়াজ্জেম হোসেন
সাবেক স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, যার বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তিনি সাধারণ পাসপোর্ট পেতে জোর তদবির শুরু করেছেন। গত ১৫ মার্চ তিনি আঁগারগাও পাসপোর্ট অফিসে সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সুপার এক্সপ্রেস (অতি জরুরি) ক্যাটাগরিতে আবেদন করেন, যা তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি পাসপোর্ট পাননি, এবং এরই মধ্যে গত ৩০ মার্চ আদালত থেকে তার বিদেশ যাত্রায় আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
পাসপোর্ট ইস্যুতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
পাসপোর্ট অধিদফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, মোয়াজ্জেম হোসেনের আবেদনের পর তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির অনুসন্ধান এবং বিতর্কিত বিষয়গুলো সামনে চলে আসে। এক কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বলেন, "তার দ্রুত দেশত্যাগের আশঙ্কা থাকায়, কর্মকর্তারা পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা আসার আগেই তিনি নানা মাধ্যমে তদবির করছিলেন, যা সন্দেহ বাড়িয়েছে।" এখন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর, পাসপোর্ট অধিদফতর মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে কিনা তা এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
গোপন দেশত্যাগের আশঙ্কা ও তদবিরের চেষ্টা
ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, "পাসপোর্ট থাকলে তিনি যদি কোনো দেশের ভিসা পেয়ে যান, তাহলে গোপনভাবে দেশত্যাগের ঝুঁকি থেকে যায়। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে ইউরোপের ভিসা নিয়েও চলে যেতে পারেন।" এই আশঙ্কার কারণে অধিদফতর সতর্কতা অবলম্বন করছে। এদিকে, মোয়াজ্জেম হোসেন তার পাসপোর্ট পাওয়া অনিশ্চিত দেখে, নানা ব্যক্তির মাধ্যমে অধিদফতরের বিভিন্ন পদের কর্মকর্তাদের কাছে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার পটভূমি
প্রসঙ্গত, গত ৩০ মার্চ সোমবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আবদুল হান্নানের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়। আবেদনে বলা হয়েছে, মোয়াজ্জেম হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন তদবির-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, এবং তিনি এই অর্থ অবৈধভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। মানি লন্ডারিংয়ের তদন্ত চলমান থাকায়, তার বিদেশ যাত্রা রোধ করা জরুরি বিবেচনা করে আদালত এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে, মোয়াজ্জেম হোসেনের পাসপোর্ট প্রাপ্তি এখন সম্পূর্ণরূপে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, এবং তার তদবির সত্ত্বেও আইনি বাধাগুলো প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। পাসপোর্ট অধিদফতর একটি সতর্ক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে যাতে কোনো অবৈধ কার্যকলাপ এড়ানো যায়।



