আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মন্ডল কারাগারে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মন্ডলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশটি মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের শুনানির পর জারি করা হয়। সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের হত্যা-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই মামলাটি পরিচালনা করছেন।
ট্রাইব্যুনালের শুনানি ও সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর আবদুল জলিল মন্ডলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বেলা ১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার জানান, গত বছরের ১৪ মে আবদুল জলিল মন্ডলের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তাঁকে কারাগারে পাঠানোর জন্য আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।
ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তাঁদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে সাবেক ডিআইজিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আবদুল জলিল মন্ডলের পেশাগত জীবন
আবদুল জলিল মন্ডলের বাড়ি পাবনা জেলায়। তিনি পুলিশ বাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য পদগুলো হলো:
- চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার
- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (শাপলা চত্বর আন্দোলনের সময়)
- র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন)
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, তিনি পুলিশ বাহিনীতে দীর্ঘদিন সেবা প্রদান করেছেন। শাপলা চত্বরের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দেশবাসী সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া জোরদার করার ক্ষেত্রে এই ঘটনা একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



