শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কেউই বাদ যাবে না: চিফ প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যারা জড়িত, তারা রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত যেই হোক না কেন, কেউই তদন্ত থেকে বাদ পড়বে না। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তিনি এই মর্মে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা ও প্রতিবেদন দাখিল
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের তদন্ত বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এই তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। জানা গেছে, ইতিমধ্যে এ মামলায় পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল জলিল মন্ডলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, যা তদন্তের গতি ও গুরুত্বকে আরও জোরদার করছে।
অতীতের ক্রসফায়ার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার
মো. আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, অতীতে যত ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, 'ওয়ান ইলেভেনের সময়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যাদের নাম আসবে, তাদেরকেই বিচারের আওতায় আনা হবে'। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অতীতের গুরুতর অপরাধগুলোর বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এই ঘোষণা দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে যে, শাপলা চত্বরের মতো বেদনাদায়ক ঘটনার সত্যতা উদঘাটন ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে। চিফ প্রসিকিউটরের এই দৃঢ় অবস্থান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



