শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলায় সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল কারাগারে প্রেরণের আদেশ
২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পুলিশ উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল জলিল মণ্ডলকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ জারি করেন।
গ্রেফতার ও বিচারিক প্রক্রিয়া
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে আব্দুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়াও, তিনি র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের পদেও কর্মরত ছিলেন।
হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব এবং মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করা হয়। মামলায় মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আসামিদের তালিকা ও তদন্ত প্রতিবেদন
শাপলা চত্বরের এই মামলায় আব্দুল জলিল মণ্ডল ছাড়াও বর্তমানে আরও পাঁচজন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন:
- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু
- সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান
- সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক
- সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম
- একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল আগামী ৫ এপ্রিল এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন।
ঘটনার পটভূমি ও গুরুত্ব
২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচির ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে 'গণহত্যা' ও 'মানবতাবিরোধী অপরাধ' হিসেবে অভিহিত করে নতুন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে।
এই মামলার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।



