নবাবগঞ্জে ব্যবসায়ী পিংকু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা আবারও পিছলো, নতুন তারিখ ১৩ মে
নবাবগঞ্জে পিংকু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা পিছলো, নতুন তারিখ ১৩ মে

নবাবগঞ্জে ব্যবসায়ী পিংকু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা আবারও পিছলো, নতুন তারিখ ১৩ মে

ঢাকার নবাবগঞ্জে ব্যবসায়ী গোলাপ হোসেন পিংকুকে পাঁচ টুকরো করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ২২ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার তারিখ আবারও পিছিয়েছে। নতুন করে আগামী ১৩ মে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এটি ইতিমধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো তারিখ পরিবর্তনের ঘটনা, যা বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিচারকের অসুস্থতায় রায় ঘোষণা স্থগিত

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলামের আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে বিচারক অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে থাকায় রায় ঘোষণা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামী ১৩ মে। এই বিলম্ব মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসামিদের তালিকা ও পলাতক অবস্থা

মামলার আসামিরা হলেন—অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান ওরফে মতি, তার বোন মরিয়ম বেগম, মরিয়মের স্বামী লুৎফর, ভাই মোখলেছ ও চান মিয়া ওরফে জাহিদ, জাহিদের স্ত্রী মেরী, আনিছ মাস্টার, বাবুল, সিরাজ, আমির, এনামুল করিম শাহীন, আমানুর, সাইজউদ্দিন, শফিকুল, হযরত, রিংকু, শরিফ, আওলাদ, দুই ভাই কাদের ও নেকবর, হাফিজ উদ্দিন ও শিবলু। এদের মধ্যে হযরত, রিংকু ও সিরাজ পলাতক রয়েছেন, যা মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী তারিখ পরিবর্তনের ইতিহাস

এর আগে ৪ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। সেদিনও রায় ঘোষণা না হয়ে ৩১ মার্চ নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছিল। এবার আবারও তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই ধারাবাহিক বিলম্ব বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও মামলার বিবরণ

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নবাবগঞ্জের কৈলাইল ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের ব্যবসায়ী পিংকুর সঙ্গে মতিউর রহমান, তার বোন মরিয়মসহ বাকি আসামিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব শত্রুতা ছিল। ওই শত্রুতার জেরে ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পিংকু মালিকান্দার চকে যাওয়ার পথে ধানক্ষেতে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পাঁচ টুকরো করে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

পরদিন পিংকুর ছোট ভাই মো. এরশাদ নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত শেষে ২২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন উপপরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন। ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচারকালে ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা মামলার গুরুত্ব ও জটিলতা নির্দেশ করে।

এই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলমান থাকলেও বারবার তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। আগামী ১৩ মে নতুন তারিখে রায় ঘোষণা হবে কিনা, তা এখন সবার অপেক্ষার বিষয়।