পুলিশের আবেদন: কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিম চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর অনুরোধ
ফাহিম চৌধুরীকে কারাগারে পাঠাতে পুলিশের আবেদন

পুলিশের আবেদন: কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিম চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর অনুরোধ

রাজধানীর গুলশান থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিম চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর জন্য পুলিশ আবেদন করেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে এই আবেদন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় গুলশান থানার ওসি আসামিকে জেলহাজতে রাখার অনুরোধ জানান।

আদালতের শুনানির অপেক্ষায় আবেদন

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন জানিয়েছেন, আবেদনটি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। এই প্রক্রিয়া আইনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

গ্রেফতার ও হস্তান্তরের ঘটনা

রোববার (২৯ মার্চ) বিকালে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা ও কিছু শিক্ষার্থী কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিম চৌধুরীকে আটক করে। পরে তাকে শাহ আলী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে গুলশান থানায় নেওয়া হয়। এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুরে সুবাস্তু মার্কেটের সামনে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা মিছিল করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনায় আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এসময় মো. ইমরান (৩০) নামের এক ব্যক্তি কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে মিছিলের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে স্লোগান দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে তিনি মারা যান। এই ঘটনাটি সমাজে গভীর শোক ও বিতর্কের সৃষ্টি করে।

মামলা দায়ের ও গ্রেফতার

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলার আসামি হিসেবে ফাহিম চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। এই মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে পুলিশের আবেদন আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে, যা আসামির ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান নির্ধারণে সহায়ক হবে। এই ঘটনাটি রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে।