তাইম হত্যা মামলায় পুলিশ সাক্ষীর জবানবন্দি: মরদেহে পিস্তল ও শটগানের গুলির চিহ্ন
গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান (তাইম) এর মরদেহের কোমরের অংশে ক্ষতচিহ্ন ছিল বলে জবানবন্দি দিয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। তাঁদের ধারণা, পিস্তলের গুলির কারণে ওই ক্ষত হয়েছিল। এই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ।
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীদের জবানবন্দি
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে সোমবার তিনজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা হলেন পুলিশ পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন, উপপরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম। এ নিয়ে এই মামলায় মোট চারজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলম ও দেলোয়ার হোসেনের জবানবন্দিতে তাইমের মরদেহের কোমরের অংশে ক্ষতচিহ্ন থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
সাক্ষীদের বিস্তারিত বর্ণনা
এএসআই জাহাঙ্গীর আলম জবানবন্দিতে বলেন, তিনি বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুলিশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০২৪ সালের ২১ জুলাই জোহরের নামাজের পর এসআই ময়নাল হোসেনের ছেলে তাইমের লাশ মসজিদে নিয়ে আসা হয়। গোসলখানায় লাশের কাপড় খুলে ফেলার সময় তিনি মৃতের শরীরে ও পায়ে অসংখ্য পেলেটের (ছররা গুলির) চিহ্ন দেখতে পান। উপস্থিত সবাই এটিকে শটগানের গুলি বলে ধারণা করেন। লাশ ওলট-পালট করার সময় কোমরের নিচে বাঁ পাশের পেছনের ওপরের অংশে একটি ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান, যা পিস্তলের গুলি বলে মনে করা হয়।
এসআই দেলোয়ার হোসেন জবানবন্দিতে জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই তাঁর মোবাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের এডিসি ফোন করে জানান, তাইম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। তিনি ময়নাল হোসেনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পান এবং পরে তাইমের মরদেহ মর্গের মেঝেতে দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘আমি খোলা চোখে তাইমের তলপেট, বুক, উভয় পায়ের হাঁটুর নিচ ও ওপরের অংশ রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। যা শটগানের পেলেটের জখম বলে মনে হয়েছে।’ গোসলের সময় তাইমের মরদেহের বাঁ পাশের কোমরের নিচে একটি বড় ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান, যা পিস্তলের গুলির আঘাতের চিহ্ন বলে মনে হয়েছে।
মামলার বর্তমান অবস্থা
পুলিশ পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ডিএমপির ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগে কর্মরত আছেন এবং ২০২৪ সালের ২০ জুলাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে যান। পরদিন তাইমের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়, যেখানে তিনি ৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সই করেন। এই মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছেন, যার মধ্যে দুজন কারাগারে আছেন: যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী। বাকি ৯ জন পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম হাসান (তাইম) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে ছিলেন। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী-সেতুর কাছে গুলি করে তাঁকে হত্যা করা হয়। তাইম নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন। এই হত্যাকাণ্ড গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে বিচারাধীন রয়েছে।



