জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজাল নাছেরের রিমান্ড মঞ্জুর
জুলাই অভ্যুত্থান মামলায় আফজাল নাছেরের রিমান্ড মঞ্জুর

জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজাল নাছেরের রিমান্ড মঞ্জুর

জুলাই অভ্যুত্থানের একটি হত্যা মামলায় বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে আজ সোমবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। গত রোববার গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে এই মামলার প্রেক্ষাপটে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন, যা আদালত বিবেচনায় নিয়ে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া

রিমান্ড শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন যে, এক-এগারোর সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ীদের অত্যাচার করেছিলেন, এবং তখন তারেক রহমানকেও ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করেছিলেন। আফজাল নাছের ছিলেন এই কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন।

ওমর ফারুক ফারুকী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বিভিন্ন মামলা দিয়ে পঙ্গু করেছিলেন, এবং একসময় খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন। আফজাল নাছের ওই হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন, এবং তাঁর প্ররোচনায় খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিতে পারেননি। তিনি শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং জুলাই আন্দোলনে হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য আন্দোলন দমনেও ভূমিকা পালন করেছিলেন। ডিজিএফআইয়ের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করছেন তিনি বলে অভিযোগ করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেখান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসামিপক্ষের জবাব ও আইনি আবেদন

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন তাঁর মক্কেলের রিমান্ড বাতিল এবং জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে আফজাল নাছেরের আইনজীবীরা বলেন, ‘এ মামলায় আসামির নাম ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। হাসিনার পক্ষে কাজ করলে আসামিকে পুরস্কৃত করার কথা, কিন্তু তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আসামি ইউনাইটেড হাসপাতালে কাজ করেছিলেন, এটা ছাড়া আসামির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আসামির বয়স বিবেচনা করে রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি।’

আদালতের সিদ্ধান্ত ও গ্রেপ্তারের পটভূমি

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামি আফজাল নাছেরের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডিবির একটি সূত্র জানায়, এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট তদন্তের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আইন ও বিচার বিভাগের নজরে রয়েছে।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলাই অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। আদালতের সিদ্ধান্ত এখন তদন্তের গতি নির্ধারণ করবে, এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।