যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আদালতের রায়
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, জামালপুরে

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আদালতের কঠোর রায়

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী আমিনুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই কঠোর রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পরিচয় ও ঘটনার পটভূমি

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি আমিনুল ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেলুয়ারচর এলাকার আমজলের ছেলে। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক বিস্তারিত জানান যে, ২০১৮ সালে সুরুজ্জামান তার মেয়ে সুজলা আক্তারকে আমিনুলের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল আমিনুল ইসলাম তার স্ত্রী সুজনা আক্তারের কাছে ২০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন।

যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় আমিনুল তার স্ত্রীকে মারধর করা শুরু করেন। পরে তার পেট ও তলপেটে লাথি মারলে পর দিন ২৫ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনা আক্তারের মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা সমাজে যৌতুকের ভয়াবহতা ও নারী নির্যাতনের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা দায়ের ও বিচার প্রক্রিয়া

এ ঘটনায় নিহতের বাবা সুরুজ্জামান বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৩ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করে, যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে।

এছাড়া আসামি আমিনুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, যেখানে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। এই স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের রায়ের তাৎপর্য

এই রায় যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর অবস্থান ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা প্রদান করে। এটি সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্ত অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।