সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আজ সোমবার ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালের যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুই হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ আদেশ দেন।
আদালতের কার্যক্রম
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন নিশ্চিত করেন, আজ সকাল সাড়ে ৯টায় খায়রুল হককে আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়। দুই ঘণ্টা পর তাঁকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখাতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের করা আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে আদালত আবেদন দুটি মঞ্জুর করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার মামলার বিবরণ
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহমুদুল হাসান তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালীর বউবাজার রোডে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি ছোড়েন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে লর্ড হার্ডিঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. আরিফ (১৭) গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা হয়। এ মামলার ঘটনার সঙ্গে খায়রুল হকের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার ব্যাপারে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদাবর থানার মামলার বিবরণ
অন্যদিকে আদাবর থানার এসআই মোহাম্মদ টিপু সুলতান তাঁর আবেদনে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গার্মেন্টসকর্মী মো. রুবেল (১৮) আদাবর এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে অংশ নেন। এ সময় আসামিরা মিছিলে নির্বিচার গুলি ছোড়েন। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট তিনি মারা যান। রুবেলের বাবা আদাবর থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি খায়রুল হক। মামলার রহস্য উদ্ঘাটনসহ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনে বলা হয়।
পূর্বের গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনকালে হত্যাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। উল্লেখ্য, ৮ মার্চ হাইকোর্ট জালিয়াতির অভিযোগসহ পৃথক চার মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ১১ মার্চ তাঁকে হাইকোর্ট জামিন দেন।
এই ঘটনাগুলো আইন ও বিচার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় নিচ্ছে। আদালতের সিদ্ধান্ত এবং পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।



