আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পুলিশ কর্মকর্তাকে নতুন দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার প্রাক্কালে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। প্রসিকিউশন পুলিশের সহকারী কমিশনার আল ইমরান হোসেনকে নতুন দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রবিবার (২৯ মার্চ) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভিডিও বিশ্লেষণে সরাসরি সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলেও নতুন প্রমাণ
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “ভিডিও বিশ্লেষণে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলেও পরবর্তী দু’দিনের ভিন্ন দুটি ঘটনায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ মিলেছে। এই কারণে তাকে নতুন দু’টি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
ওই কর্মকর্তা এখন দেশে আছেন নাকি পলাতক তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তদন্তের গোপনীয়তার স্বার্থে এখনি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।” এই মন্তব্যে তদন্তের সংবেদনশীলতা ও গোপনীয়তার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আগামী ৯ এপ্রিল এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে রেখেছে, যা এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, আবু সাঈদকে হত্যার দিন অর্থাৎ, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের একটি নতুন সিসিটিভি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে আবু সাঈদকে যখন গুলি করা হয়, তার ঠিক উল্টোপাশেই সাদা হেলমেট পরিহিত ও লাঠি হাতে দাঁড়িয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আল ইমরান হোসেন।
প্রসিকিউশনের ভূমিকা ও বিতর্ক
জানা গেছে, ঘটনাস্থলে ‘মারমুখী উপস্থিতি’ থাকা সত্ত্বেও প্রসিকিউশন তাকে আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি করেনি। মামলাটিতে তাকে সাক্ষী করা হলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি। ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে ইমরান ঘটনাস্থলে থাকার কথা স্বীকার করলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
প্রসিকিউশন সম্পর্কে ওঠা নানা বিতর্কিত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি করেছি, এই রিপোর্টে সব বিষয় আসবে। আমাদের কাছে যদি মনে হয়, তাকে সাক্ষী না করলেও চলতো, আসামিই করতে পারতো, সেই জায়গাগুলো আমরা হয়তো অ্যাড্রেস করবো।” এই মন্তব্যে প্রসিকিউশনের তদন্ত পদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এই ঘটনাটি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, বিচারিক প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং প্রসিকিউশনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। সামগ্রিকভাবে, এটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হবে।



