যাত্রাবাড়ীতে হানি ট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে হানি ট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৯ মার্চ) শনির আখড়া ও গোবিন্দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়
গ্রেফতারকৃতরা হলেন আ. গাফ্ফার সরকার (৪৫) এবং শিরিন আক্তার ওরফে সুমাইয়া (২৫)। পুলিশের মিডিয়া বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৬৭ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। এই অর্থ একটি হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া বলে পুলিশ দাবি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানাধীন গোবিন্দপুর এলাকায় নূর মসজিদ সংলগ্ন একটি বাসায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলা হয়। এই চক্র তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মোট দুই লাখ ৫৯ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ঘটনার সূত্র ধরে, শিরিন আক্তার ওরফে সুমাইয়া পূর্ব পরিচয়ের অজুহাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে শনির আখড়া এলাকায় দেখা করার জন্য ডেকে নেয়। পরে তাকে কৌশলে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আরও কয়েকজন সহযোগী ঢুকে তাকে মারধর করে এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করে।
পুলিশের অভিযান ও তদন্ত
এই ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনির আখড়া ও গোবিন্দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, জব্দকৃত ৬৭ হাজার টাকা হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের অংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, বাকি অর্থ উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে বলে জানানো হয়। পুলিশের এই সক্রিয় তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপ অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
হানি ট্র্যাপের বিরুদ্ধে সতর্কতা
এই ঘটনা হানি ট্র্যাপ বা প্রেমের ফাঁদ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছে। পুলিশ সুপারিশ করেছে যে, অপরিচিত ব্যক্তির সাথে সন্দেহজনক মিটিং এড়ানো এবং যেকোনো ধরনের চাপে টাকা আদায়ের চেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা উচিত। সামাজিক মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।



