মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার হাজিরা নির্দেশ, ৭ এপ্রিল দিন ধার্য
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার হাজিরা নির্দেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার হাজিরা নির্দেশ

বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে আগামী ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল রবিবার (২৯ মার্চ) এ আদেশ জারি করেন।

প্রসিকিউশনের আবেদন ও শুনানি

প্রসিকিউশন পক্ষের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল এই সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি সাবেক ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গুমের মামলায় এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফেনীতে সংঘটিত জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুর জন্য আবেদন করেন। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য সময় চাওয়া হয়।

শুনানি শেষে বিচারিক প্যানেল উভয় অভিযুক্তের হাজিরের জন্য আগামী ৭ এপ্রিল দিন ধার্য করে। এর আগে, প্রসিকিউশন সকালে সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখাতে আবেদন করেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও রিমান্ড

প্রসঙ্গত, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। লে জে (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মানবপাচার ও জালিয়াতির মামলায় গত ২৪ মার্চ গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার এবং নথিপত্র জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, লে জে (অব.) শেখ মামুন খালেদ, যিনি ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান ছিলেন, তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত একটি অভ্যুত্থানকালীন হত্যা মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এই মামলাগুলোতে তাদের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

আদালতের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম

ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী, ৭ এপ্রিলের শুনানিতে উভয় অভিযুক্তকে হাজির হতে হবে। প্রসিকিউশন পক্ষ এদিন নতুন আবেদন বা তথ্য উপস্থাপন করতে পারে, যা মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই মামলাগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম দেশ-বিদেশে নজর রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।