মানবপাচার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ফের ৬ দিনের রিমান্ড
রাজধানীর পল্টন থানায় দায়েরকৃত মানবপাচার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও এক/এগারোর আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফের ৬ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। এদিন তাকে হাজির করে ডিবি পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন, যা আদালত ৬ দিনে মঞ্জুর করেন।
গ্রেফতার ও পূর্ববর্তী রিমান্ড
এর আগে গত সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এই নতুন রিমান্ডের মাধ্যমে তার মোট রিমান্ড সময় বাড়ানো হলো।
মামলার বিবরণ ও অভিযোগ
সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটর আলতাব খান। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে প্রায় ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়, যা তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পটভূমি
২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ ওই বছরে এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৮ সালের জুনে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার করে পাঠানো হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে, যা তার কূটনৈতিক ভূমিকা নির্দেশ করে।
২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাসুদ। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়েও জয়ী হন তিনি, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। এই মামলার প্রেক্ষাপটে তার বর্তমান আইনি অবস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জাগছে।



