মগবাজারে নবীন ফ্যাশনের দোকান বন্ধে পুলিশের ভূমিকায় ওসির নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা
রাজধানীর মগবাজার এলাকায় নবীন ফ্যাশনের একটি পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা। রবিবার (২৯ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে তিনি জবাব দাখিল করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আদালতের নির্দেশনা ও ওসির জবাব
নবীন ফ্যাশনের দোকান বন্ধের ঘটনায় গত ২৫ মার্চ একই আদালত ওসি গোলাম মর্তুজাকে তলব করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তিন দিন সময় দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোকানটি খুলে দিতে ওসিকে নির্দেশ দেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ জারি করেছিলেন।
আদালতে হাজির হয়ে ওসি গোলাম মর্তুজা তার জবাব দাখিল করেন এবং নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামাল উদ্দিন মারজিন জানান, ওসি আদালতে হাজির হয়ে জবাব দাখিল করেছেন এবং ক্ষমা চেয়েছেন। আদালত তার বক্তব্য শুনেছেন এবং এখন বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ রয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও অন্যান্য বিবরণ
নবীন ফ্যাশন বন্ধের দিনে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু-স্বজন বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। আদালত এই ব্যক্তিদের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের মতামত চেয়েছেন। এছাড়া, এই ঘটনায় ওসি গোলাম মর্তুজাকে হাতিরঝিল থানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ঈদুল ফিতরের আগের দিন ২০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় আশপাশের ব্যবসায়ীরা মগবাজারে নবীন ফ্যাশনের দোকান বন্ধ করে দেন। কমদামে পণ্য বিক্রিকে ‘রিলিফ দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানান আশপাশের দোকানিরা। এই ঘটনায় পুলিশের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
এই ঘটনাটি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং আদালতের হস্তক্ষেপে তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ওসির ক্ষমা প্রার্থনা এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলি এখন নজরে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।



