মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের মামলায় সাবেক দুই লেফটেন্যান্ট জেনারেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের আবেদন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের মামলায় সাবেক দুই লেফটেন্যান্ট জেনারেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের আবেদন করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
শেখ মামুন খালেদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ড
এর আগে, বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে বারোটার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে শেখ মামুন খালেদকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মিরপুর মডেল থানার হত্যার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিনের আবেদন অনুসারে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেয়।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় ৫–৭ শতাধিক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ মামুন খালেদ এই হামলার নির্দেশ দেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন, যিনি পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই মারা যান।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের সত্য উদঘাটন, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, অজ্ঞাতদের তথ্য সংগ্রহ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার
অন্যদিকে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে ঢাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন পল্টন থানার মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকেও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এই মামলাগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগের দিকে আলোকপাত করেছে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত ও তদন্তের অগ্রগতি দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



