যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: চার আসামি গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে ঘটনা
যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী হত্যা: চার আসামি গ্রেপ্তার

যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: চার আসামি গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে ঘটনা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আরমান হক বিপু ওরফে যুব (২১), মো. ইসমাঈল হোসেন ফাহিম ওরফে শাফিন (২১), কামরুল ইসলাম রানা (৩০) এবং আলী হোসেন (৫০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই চারজনকে ২৮ মার্চ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টায় যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ

নিহত সাদমান সাইফ রাইভি (২৩) সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি তেজগাঁও এলাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন। গত ২৩ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের পক্ষ থেকে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২৬ মার্চ সাদমানের বাবা গেন্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। একই দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারেন, যাত্রাবাড়ী থানাধীন উত্তর কুতুবখালী এলাকায় একটি অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মৃতদেহের পরিহিত জার্সিতে ‘RAIVI’ লেখা দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি সাদমান সাইফ রাইভির বলে শনাক্ত করেন। যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, ২৬ মার্চ সকাল আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তর কুতুবখালী এলাকার একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি

এ ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা রুজু করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ মার্চ ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে গ্রেপ্তারকৃত আরমান হক বিপু ও ইসমাঈল হোসেন ফাহিম সাদমানের কাঁধে হাত দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের পেছনে মো. জুবায়ের ও কামরুল ইসলাম রানা হাঁটছিলেন।

এছাড়া, ২৩ মার্চ রাতে কামরুল ইসলাম রানার বাসার ছাদে একটি অনুষ্ঠানে ভিকটিমসহ আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২৪ মার্চ ভোর থেকে ২৬ মার্চ সকালের মধ্যে যে কোনো সময় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাইভিকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দেয়।

প্রধান সন্দেহভাজন ও সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চেষ্টা

পুলিশ আরও জানায়, প্রধান সন্দেহভাজন মো. জুবায়েরকে বিদেশে (অস্ট্রেলিয়া) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় ফুটেজের কিছু অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, লাশ গুম এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ এখন প্রধান সন্দেহভাজন মো. জুবায়েরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং মামলার তদন্ত আরও গভীরভাবে চলছে।