রাইভি হত্যা মামলায় চার আসামি গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে সন্দেহভাজনরা
ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় সিদ্ধেশ্বরী কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাদমান সাইফ রাইভি হত্যায় জড়িত সন্দেহে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা–পুলিশ। শনিবার যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও মরদেহ উদ্ধার
২৬ মার্চ যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী খাল থেকে সাদমান সাইফের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পরে সাদমানের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সাদমান সাইফ পড়াশোনার পাশাপাশি তেজগাঁও এলাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন। ২৩ মার্চ রাত ৯টার দিকে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন আরমান হক বিপু ওরফে যুব (২১), ইসমাঈল হোসেন ফাহিম ওরফে শাফিন (২১), কামরুল ইসলাম রানা (৩০) এবং আলী হোসেন (৫০)। তদন্তে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ২৪ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আসামি আরমান হক বিপু ও ইসমাঈল হোসেন ফাহিম সাদমানকে কাঁধে হাত দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের পেছনে মো. জুবায়ের ও কামরুল ইসলাম রানা হাঁটছিল।
ঘটনার ধারাবাহিকতা ও তদন্তের অগ্রগতি
২৩ মার্চ রাতে কামরুল ইসলাম রানার বাসার ছাদে একটি অনুষ্ঠানে সাদমানসহ আসামিরা উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। যাত্রাবাড়ী থানা–পুলিশের ধারণা, ২৪ মার্চ ভোর থেকে ২৬ মার্চ সকালের মধ্যে আসামিরা সাদমানকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দেয়। ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন জুবায়েরকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সাদমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
২৬ মার্চ সাদমান সাইফের বাবা রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেদিনই যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী এলাকার একটি খালে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারেন পরিবারের লোকজন। তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়ে সাদমানের পরনে থাকা জার্সিতে ‘রাইভি’ লেখা দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন, যা হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।



