যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী হত্যা: চার আসামি গ্রেফতার, প্রধান সন্দেহভাজন বিদেশে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সাদমান সাইফ রাইভি নামে এক শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—আরমান হক বিপু ওরফে যুব (২১), মো. ইসমাঈল হোসেন ফাহিম ওরফে শাফিন (২১), কামরুল ইসলাম রানা (৩০) ও আলী হোসেন (৫০)। শনিবার সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও তদন্তের অগ্রগতি
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের বরাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত সাদমান সাইফ রাইভি সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তেজগাঁও এলাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে পার্ট-টাইম চাকরি করতেন।
গত সোমবার রাত ৯টার দিকে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে তিনি বাসা থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ডিএমপির গেন্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। একই দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিকটিমের আত্মীয়স্বজনরা জানতে পারেন, যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মৃতদেহের পরিহিত জার্সিতে ‘রাইভি’ লেখা দেখে সেটিকে সাদমান সাইফ রাইভির মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।
মামলা ও তদন্তের বিস্তারিত
থানা পুলিশের বরাতে সহকারী কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে উত্তর কুতুবখালী এলাকার একটি খাল থেকে রাইভির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরে বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে একই থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৪ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গ্রেফতারকৃত আরমান হক বিপু ও ইসমাঈল হোসেন ফাহিম ভিকটিম রাইভিকে কাঁধে হাত দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের পেছনে জুবায়ের ও কামরুল ইসলাম রানা হাঁটছিলেন। এছাড়া ২৩ মার্চ রাতে কামরুল ইসলাম রানার বাসার ছাদে একটি অনুষ্ঠানে ভিকটিম রাইভিসহ আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, ২৪ মার্চ ভোর থেকে ২৬ মার্চ সকালের মধ্যে যেকোনও সময় গ্রেফতারকৃতরা রাইভিকে হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দেন।
প্রধান সন্দেহভাজন ও সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চেষ্টা
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ আরও জানায়, প্রধান সন্দেহভাজন জুবায়েরকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ডটি রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলেছে এবং শিক্ষার্থী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার এবং বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।



