মানিকগঞ্জে ইজিবাইক চালক হত্যায় তিনজন গ্রেপ্তার
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ইজিবাইক চালক রফিক মিয়াকে গলাকেটে হত্যা করে মাথা বিচ্ছিন্ন করার মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। আজ শনিবার দুপুরে জেলা শহরের পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হত্যার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার। রফিক মিয়া নামের ২৭ বছর বয়সী ইজিবাইক চালক সকাল ১০টার দিকে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন এবং এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন বুধবার দুপুরে পাছবারইল গ্রামের এক ব্যক্তি কালীগঙ্গা নদীর তীরে একটি পা দেখতে পান। পরে উদ্ধার করা হয় মাথাবিহীন লাশ, যা রফিকের বলে শনাক্ত করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, রফিকের বন্ধু ও নির্মাণশ্রমিক রিপন মিয়া ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে রফিককে ইজিবাইকে করে পাছবারইল এলাকার কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান রিপন এবং তাঁর সহযোগী সজীব ও আরমান। সেখানে আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন দা দিয়ে তাঁর গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করেন।
গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন জেলার ঘিওর উপজেলার রাথরা গ্রামের মো. রিপন মিয়া (৩০), সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের আরমান হোসেন (২০) এবং একই গ্রামের সজীব হোসেন (২৫)। পিবিআই গত বৃহস্পতিবার ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় রিপনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কালামপুরের একটি গ্যারেজ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানান, নিহত যুবকের মাথা উদ্ধারে ডুবুরি দল দিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালানো হয়েছে, কিন্তু এখনো মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। পিবিআই আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।



