মামুন খালেদের স্বীকারোক্তি: ডিজিএফআই-এর ক্লিয়ারেন্স ছাড়া রাজনৈতিক আসামি ছাড়া হতো না
মামুন খালেদের স্বীকারোক্তি: ডিজিএফআই-এর ক্লিয়ারেন্স ছাড়া রাজনৈতিক আসামি ছাড়া হতো না

ডিজিএফআই-এর ক্লিয়ারেন্স ছাড়া রাজনৈতিক আসামি ছাড়া হতো না: মামুন খালেদের স্বীকারোক্তি

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডিজিএফআই-এর ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কোনো রাজনৈতিক আসামিকে ছাড়া হতো না। মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলার রিমান্ড শুনানিতে তিনি এই সরল স্বীকারোক্তি দেন।

রাজনৈতিক মামলায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ

তার এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। শুধু তাই নয়, মামুন খালেদ ডিজিএফআইকে রাজনীতিকরণের অন্যতম কুশীলব হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড শুনানি হয় এবং শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামুন খালেদের বিস্তারিত বক্তব্য

রিমান্ড শুনানিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে মামুন খালেদ বলেন, 'আমি ২০০৭ সালে ডিজিএফআই-এর জেএসএস (সিগনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো) ফোর্সেসে যোগদান করি। যেখানে কমিউনিকেশন সংক্রান্ত দায়িত্বে ছিলাম। দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন মামলায় বেইল সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করেছি। সেসময় বিচারকদের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে যোগাযোগ করে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমাদের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হতো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) মামলায়ও বেইল (জামিন) সংক্রান্ত কাজ করেছি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলার প্রেক্ষাপট

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন রিমান্ড আবেদনে বলেন, 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দেলোয়ার হোসেন (৪০) নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার সাবেক ডিজিএফআইপ্রধান শেখ মামুন খালেদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। মামলার তদন্ত, অন্য আসামিদের শনাক্তকরণ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।'

এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএস-এর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর এজাহারভুক্ত আসামিসহ ৫০০-৭০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। তারা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. লিজা ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন।

আদালতের ভূমিকা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

আদালত এই মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামুন খালেদের স্বীকারোক্তি রাজনৈতিক মামলায় গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।