নতুন বাংলাদেশ গড়তে সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল শনিবার বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার অংশ হিসেবে সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচারের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। তিনি সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় এ মন্তব্য করেন।
গণআন্দোলন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা
কাজল উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের ছাত্র ও জনতার গণআন্দোলন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের এই আকাঙ্ক্ষা রূপ পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, এখন আমাদের সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি সকল দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের নিজ নিজ ভূমিকায় দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধা নিবেদন প্রসঙ্গে মন্তব্য
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি যোগ করেন, ‘একজন পেশাদার হিসেবে আমি রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। সংশ্লিষ্ট দল নিজেই তাদের ব্যাখ্যা দিতে পারে।’
অতীত শাসন ও বর্তমান সরকারের ভূমিকা
অতীতের শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গে কাজল বলেন, বিচার বিভাগসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না, যা তিনি একটি পূর্ববর্তী কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সহায়তা করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্বাধীন, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা বৃদ্ধি করেছে।
তিনি বলেন, ‘জনগণ একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ চায়, যেখানে আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।’ তিনি যোগ করেন যে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনি ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এই প্রত্যাশা পূরণের মূল চাবিকাঠি হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল শেষে বলেন, ‘আমরা জনগণের কল্পিত বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে ন্যায়বিচারের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চাই।’ এই বক্তব্য বাংলাদেশের আইন বিভাগ ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত করে, যা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



