মেয়ে হত্যা মামলায় চাঁদাবাজির ফাঁদে বাবা গ্রেফতার
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় এক ট্র্যাজেডি থেকে জন্ম নেওয়া চাঁদাবাজির কাহিনীতে জড়িয়ে পড়েছেন এক বাবা। গৃহবধূ সাবিনা আক্তার হত্যার পর তার পিতা ময়নাল হোসেন মামলার ভয় দেখিয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ঈদের দিন আরেকটি হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর চান্দিনার হোসেনপুর গ্রামে সাবিনা আক্তারের মরদেহ বাথরুমে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার পিতা ময়নাল হোসেন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবিনার স্বামী আবুল খায়ের ও তার বড় বোন শিউলিকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু এরপর থেকেই ময়নাল হোসেনের ভিন্ন চরিত্র প্রকাশ পায়।
চাঁদাবাজির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়নাল হোসেন তার কয়েকজন সহযোগী মনির হোসেন, রিপন ও মাহবুবকে নিয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করতেন। মেয়ে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তারা অর্থ আদায় করতেন। গত তিন মাসে ১২ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অন্তত ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ময়নাল প্রথমে সহযোগীদের পাঠাতেন, পরে নিজে চূড়ান্ত লেনদেন করতেন।
ঈদের দিনের হত্যাকাণ্ড
২১ মার্চ ঈদের দিন ময়নাল হোসেন তার সহযোগীদের নিয়ে সাবিনার দেবর হাসানের বাড়িতে হানা দেন। টাকা দাবি করে হাসানকে মারধর করা হয়। এ সময় হাসানের মা কারিমা খাতুন ও প্রতিবন্ধী নাতনি মরিয়ম বাধা দিতে গেলে মরিয়মকেও মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলেই মরিয়মের মৃত্যু ঘটে। পরে থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং ময়নাল হোসেনকে প্রধান আসামি করে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
চান্দিনা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, ময়নাল হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। ঈদের দিনের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে হত্যার আলামত পাওয়ায় ময়নালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে।
পারিবারিক পটভূমি
নিহত প্রতিবন্ধী মরিয়ম আক্তার একই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। পিতার মৃত্যুর পর তিনি মায়ের সঙ্গে মামার বাড়ি হোসেনপুরে বসবাস করতেন। প্রায় দশ বছর আগে সাবিনা আক্তারের বিয়ে হয় হোসেনপুর গ্রামের আবুল খায়েরের সঙ্গে। এই পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতাই বর্তমান সংঘাতের মূল বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



