ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেলেন
দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আজ বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
শিক্ষা ও পেশাগত জীবন
ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল পেশায় একজন আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট। তিনি ইংল্যান্ডের বিখ্যাত লিংকনস ইন থেকে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিম্নরূপ:
- ১৯৮৬ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি
- ১৯৮৮ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে সম্মানসহ মাস্টার্স ডিগ্রি
- লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন শাস্ত্রে সম্মান
- দি সিটি ইউনিভার্সিটি, লন্ডন থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন
তিনি একজন সাবেক কূটনীতিকও ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং দৈনিক দিনকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
পেশাগত অর্জন ও ভূমিকা
২০২০ সাল থেকে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পরপর নির্বাচিত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সারাদেশের আইনজীবীদের ভোটে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে এর এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘদিন আইনের শীর্ষ অঙ্গনে সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তিনি গ্রেফতার হন, ডিবি কার্যালয়ে চারদিনের রিমান্ডে নির্যাতন ভোগ করেন এবং কারাবরণ করতে হয়। তিনি জুলাই আন্দোলনেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্বাস
বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, "নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি আমি অনুরক্ত হই। এই দল ছাড়া অন্য কোন দল আমি করিনি, এমনকি অভিমান বা অনুযোগ করেও এক দিনের জন্য দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকিনি।"
তার নিয়োগ দেশের আইন বিভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্যারিস্টার কাজলের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণ তাকে এই উচ্চপদে যোগ্য করে তুলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।



