জিয়াউর রহমান মামলায় সাবেক বিচারপতি মানিক, মেনন ও ইনুকে জামিন দিল আদালত
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে জামিন দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকিরের আদালত এই আদেশ জারি করেন।
আদালতের শুনানি ও জামিনের প্রক্রিয়া
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আজ মামলার দিন ধার্য ছিল। এই মামলায় হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন ছিল। এ জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও রাশেদ খান মেননকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ইনুকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তিন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।”
এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি এই মামলায় মেনন ও মানিককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের ২২ অগাস্ট জিয়াউল হক নামে এক আইনজীবী বাদী হয়ে আদালতে মানহানির মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মানহানিকর কথা বলেন। এর আগে ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়েও তিনি মানহানিকর কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৩ সালের ১৯ জুলাই ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এছাড়াও আসামিরা বিভিন্ন সময়ে জিয়া পরিবার সম্পর্কেও বিরূপ ও মানহানিকর বক্তব্য দেন, যা মামলার অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলাটি রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আদালতের জামিন প্রদানের সিদ্ধান্তটি আসামিদের আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে মামলার শুনানি ও তদন্ত প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা এখন সকলের নজরে রয়েছে।



