অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ সংসদে পাঠানো হবে ২ এপ্রিলের মধ্যে
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সংবিধানের বিধান এবং জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েই এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যা দেশের আইনি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক ও আলোচনা
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা সকাল ১১টায় শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, সংবিধান ও জনআকাঙ্ক্ষা—উভয় বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েই বিশেষ কমিটি তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা শেষে চলতি সংসদ অধিবেশনেই তা সংসদে উত্থাপন করা হবে, যা আইনি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
অধ্যাদেশ উপস্থাপন ও বিশেষ কমিটির গঠন
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন, যা দেশের আইনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত। পরবর্তীতে তার প্রস্তাবের ভিত্তিতে অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়, যেখানে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হবে। বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির জয়নুল আবেদীন, যা রাজনৈতিক সমন্বয়ের একটি উদাহরণ।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, সালাহ উদ্দিন আহমদ, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এএম মাহবুর উদ্দিন, আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, ফারাজানা শারমীন, জামায়াতে ইসলামীর মো. মজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী মো. নজরুল ইসলাম। তবে অসুস্থতার কারণে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি, যা কমিটির কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রক্রিয়াটি দেশের আইনি ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনমন্ত্রীর এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



