ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনে দুর্নীতির অভিযোগ: কমিটি গঠন, তদন্ত চলমান
ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনে দুর্নীতি অভিযোগ, কমিটি তদন্তে

ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনে দুর্নীতির অভিযোগ: কমিটি গঠন ও তদন্তের খসড়া

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে বর্তমানে একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের রাজসাক্ষী বানানো এবং জামিন করানো সংক্রান্ত অনিয়ম। সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন টিমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও পদত্যাগ

প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকার বিনিময়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী বানানোর অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে তাজুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করেন যে, সুলতান মাহমুদের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানোর ঘটনায় তিনি আক্রোশের শিকার হয়েছেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে সুলতান মাহমুদের স্ত্রী হোসনে আরা দাবি করেন, "তাজুল সাহেব নিচতলায় অবস্থান করেন এবং তামিম সাহেব ড্রয়িংরুমে ঢুকে আমাকে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে ও মিডিয়ার সামনে কথা বলতে প্ররোচনা দেন।" তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে এবং এই অভিযোগ স্বামীর ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য সামনে আনা হয়েছে। পরবর্তীতে মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সব অভিযোগ অস্বীকার করে পৃথক বিবৃতি দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অডিও ফাঁস ও নতুন বিতর্ক

প্রসিকিউশনের বিতর্কিত পরিস্থিতিতে গত ৯ মার্চ জামিনের বিনিময়ে কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগ সংক্রান্ত দুটি অডিও ফাঁস হয়। অডিও ফাঁসের আগেই প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার পদত্যাগ করেন, যা নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করে। সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুমের ফাঁস হওয়া অডিওকে কেন্দ্র করে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠিত হয়।

কমিটির তদন্ত ও আইনমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

গত ১০ মার্চ কমিটি গঠিত হলেও তদন্তের অগ্রগতি অস্পষ্ট রয়ে গেছে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, "কমিটির দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরা কাজ করছি। তাই এ নিয়ে এখন কিছু বলার সুযোগ নেই। অপেক্ষা করতে হবে। প্রতিবেদনে সব তুলে ধরা হবে।"

এদিকে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গত ১৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে নিয়োজিত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুর্নীতির কারণে একজনের চাকরি চলে গেছে। চাকরিচ্যুত প্রসিকিউটর আইনজীবী হলে তার লাইসেন্স বাতিলে বার কাউন্সিলে পাঠাতাম।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা সাবেক ও বর্তমান প্রসিকিউটরদের ইতিমধ্যে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি তলব করেছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি, যা এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।