প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা: ভুয়া গেজেট ও কার্ড ব্যবহারকারী গ্রেপ্তার
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা: ভুয়া গেজেট ও কার্ড ব্যবহারকারী গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে ভুয়া গেজেট ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা থেকে একটি যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং কক্সবাজার জেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুয়া গেজেট ও প্রতারণার কৌশল

ডিবি সূত্র থেকে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আরিফ মাঈনুদ্দিন ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করে দাবি করেন যে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই ভুয়া গেজেটে প্রতিমন্ত্রীর সমপর্যায়ের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। পরে এই নকল নথি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়ে তিনি প্রতারণার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে তা ব্যবহার করতেন বলেও পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরেকটি ভুয়া গেজেট ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন যে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের নকল লোগো ও প্যাড ব্যবহার করে আরিফ মাঈনুদ্দিন আরেকটি ভুয়া গেজেট তৈরি করেন। সেখানে তিনি নিজেকে ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর সদস্য সচিব পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতারণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি অসাধু উপায়ে আর্থিক সুবিধা লাভের চেষ্টা করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার ও উদ্ধারকৃত সামগ্রী

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ভুয়া গেজেট, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি সংবলিত ভিজিটিং কার্ড এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই সামগ্রীগুলো তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে মামলা দায়ের করার পরিকল্পনা করছে।

এই ঘটনাটি সমাজে প্রতারণা ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থা বৃদ্ধি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে আরও কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।