কেরানীগঞ্জে হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনের অব্যাহতি, আদালতের ঐতিহাসিক রায়
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জিহাদ নামে এক শিশুর হত্যা মামলায় সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাসহ মোট ১২৪ জন আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এই অব্যাহতির আদেশটি শুক্রবার (২০ মার্চ) আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আবদুল নূর নিশ্চিত করেছেন, যা দেশের আইনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তদন্তে উন্মোচিত হয় চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট ঢাকার সিজেএম আদালতে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভুক্তভোগী জিহাদ প্রকৃতপক্ষে জীবিত রয়েছেন এবং তিনি কেবলমাত্র জখমপ্রাপ্ত হয়েছেন। আদালতের আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মামলার এজাহার, চার্জশিট এবং ভুক্তভোগীর জবানবন্দি থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও ভুক্তভোগী মারা যাননি, বরং তিনি নিজেই আদালতে তার জখমের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই বদিয়ার রহমানের দাখিল করা প্রতিবেদন গ্রহণ করে গত বছরের ৩০ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না আসামিদের অব্যাহতি দেন। পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, 'বাসস্থান-আর্থিক লোভে' পড়ে মামলায় জিহাদকে মৃত দেখানো হয়েছে, যা একটি 'তথ্যগত ভুল' হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ
এই মামলায় অব্যাহতিপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
- শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল
- সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস
- সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিশু জিহাদ নিহত হয়েছে— এমন অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার দলের ১২৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন বাবা জহিরুল ইসলাম রাজু। তবে, পুলিশের গভীর তদন্তে এই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, যা আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি করেছে।
আদালতের যুক্তি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
বিচারক তামান্না তার আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ভিন্ন স্থানে 'জখম হওয়ার' ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে 'হত্যা' সাজিয়ে দায়ের করা এই মামলায় তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'এমন অবস্থায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।'
এই রায়টি আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে, যেখানে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করে নির্দোষদের রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় এই ঘটনা একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



