কাপড় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ও গ্রেফতার
কাপড় ব্যবসায়ী অপহরণ: পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ও গ্রেফতার

গাজীপুরে কাপড় ব্যবসায়ী অপহরণ: পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ও দুই আসামি গ্রেফতার

ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্র ধরে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। ভিকটিম কাপড় ব্যবসায়ী নিজাম শেখ (৬০) কক্সবাজারে ফেরি করে পোশাক বিক্রি করেন। ব্যবসার প্রয়োজনে তার পরিচয় হয় আরেক কাপড় ব্যবসায়ী শিউলীর (৪০) সঙ্গে। শিউলী ভিকটিমের কাছ থেকে চার লাখ টাকা ধার নেয়, কিন্তু টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে ঘটনা ভয়াবহ রূপ নেয়।

অপহরণের কৌশল ও মুক্তিপণের দাবি

টাকা ফেরত দেওয়ার সময় পার হলে ফোনে টাকা চাইলে শিউলী ভিকটিমকে কক্সবাজার থেকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তায় আসতে বলে। সোমবার রাত ১১টার দিকে রওনা দিয়ে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ার মার্কেটের সামনে পৌঁছান নিজাম শেখ। শিউলীকে ফোন দিলে সে দেখা না করে কৌশলে তাকে অপহরণ চক্রের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়।

চক্রের সদস্যরা ভিকটিমকে নিয়ে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা, বৈরাগীরচালা এবং মাধখলা এলাকায় আটকে রেখে মারধর করে। ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা ভিকটিমের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ভিকটিমের ছেলে মিজানুর রহমান রিপন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চক্রের সদস্যদের ২০ হাজার টাকা পাঠানোর পরও তারা মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের রাতভর অভিযান ও উদ্ধারকাজ

মঙ্গলবার ভিকটিমের ছেলে মিজানুর রহমান রিপন কুষ্টিয়া থেকে শ্রীপুর থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছে তার বাবাকে অপহরণের বিষয়টি জানান। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ তাৎক্ষণিক ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান শুরু করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওই দলের প্রধান উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাল চান তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণ চক্রের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করলেও তারা বার বার ভিকটিমকে নিয়ে স্থান পরিবর্তন করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অপহরণ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান তীব্রতর হয়।

গ্রেফতার ও মামলা দায়ের

বুধবার সকাল ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা এলাকার শাল-গজারি বনের ভেতর জনৈক দবীরের কলাবাগানে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এসআই লাল চান ইউনিফর্মের ওপর অন্য পোশাক পরে কলাবাগানের দিকে এগিয়ে যান। নিকট দূরত্বে থাকা অবস্থায় চক্রের দুই সদস্য ভিকটিমকে রেখে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

পরে অভিযানের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ে চক্রের সদস্য শাহাদৎ হোসেন (৩৯) ও আমির হোসেন (৫৫)কে গ্রেফতার এবং ভিকটিম নিজাম শেখকে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় এবং ভিকটিমকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে মিজানুর রহমান রিপন বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পাঁচ জনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

অপহরণ চক্রের সদস্যদের পরিচয়

অপহরণ চক্রের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:

  • ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হরিবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া গ্রামের কামালের স্ত্রী শিউলী (৪০)
  • আমান উল্লাহর ছেলে কামাল (৪২)
  • শ্রীপুর পৌরসভার বকুলতলা এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে শাহাদৎ হোসেন (৩৯)
  • মাধখলা এলাকার আমির হোসেনের ছেলে সুমন (২৬)
  • মৃত বারো মিয়ার ছেলে মিলন (২৮)
  • মৃত ফজলুর ছেলে আলমগীর হোসেন (২৯)
  • মৃত নরুল ইসলামের ছেলে আমির হোসেন (৫৫)

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাল চান ঘটনার সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ভিকটিম নিজাম শেখ কুষ্টিয়া সদর থানার হাটশ হরিপুর গ্রামের মৃত সিরজান শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে কাপড়ের ব্যবসা ও বিক্রি করে আসছেন।