শহীদ মিনারে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় আসামি সালাউদ্দিনের চার দিনের রিমান্ড
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বোরহানুদ্দীন কলেজের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে (২৫) গুলি ও কুপিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেফতার সালাউদ্দিন ওরফে সাগরকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এই আদেশ দেন।
রিমান্ড আবেদন ও আদালতের সিদ্ধান্ত
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. মিঠু সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর তার সহযোগী গোলাম রসুল শিহাব, রাফিন শেখ, শাহরিয়ার নাজিম জয় ও সাগর ফকিরসহ অন্যদের সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তবে হত্যার মূল কারণ এবং নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে তথ্য প্রদানে সে বিরত থাকছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
গ্রেফতার ও পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে পিস্তল ও গুলিসহ সালাউদ্দিন সাগরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া অন্য দুই আসামি শিহাব ও সাগর (ফকির) গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রাফিন ও জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ
গত রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিবুল ইসলাম রাকিব মোটরসাইকেলে করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে পথচারীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহত রাকিবের বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তরিকুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ও নারীঘটিত আক্রোশ থেকে খুলনার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে এই ‘কিলিং মিশন’ পরিচালিত হয়েছিল।



