রোমান্টিক দ্বন্দ্বে হত্যা: ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাকিবুল হত্যায় চারজন গ্রেপ্তার
রোমান্টিক দ্বন্দ্বে রাকিবুল হত্যায় চারজন গ্রেপ্তার

রোমান্টিক দ্বন্দ্বে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা: ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাকিবুল ইসলাম হত্যায় চারজন গ্রেপ্তার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রোমান্টিক দ্বন্দ্বের জেরে সংঘটিত একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবুল ইসলাম (২৫) নিহত হন। পুলিশের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগ বুধবার সকালে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও গ্রেপ্তার

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং একটি রোমান্টিক দ্বন্দ্বের কারণে সংঘটিত হয়েছে। মোট সাত থেকে আটজন ব্যক্তি এই হামলায় জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারীরা একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ভাড়াটে হিসেবে ঢাকায় আনা হয়েছিল এই হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন করার জন্য। রাকিবুলের পরিবার ইতিমধ্যে এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার সময় ও স্থান

রবিবার রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটে রাকিবুল তার বন্ধুদের সাথে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বসেছিলেন। এমন সময় একদল হামলাকারী সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রথমে তার দিকে গুলি ছোড়ে। এরপর তারা তাকে নির্বিচারে ছুরিকাঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে দর্শকরা একটি দা নিয়ে ঘটনাস্থলেই আটক করে এবং তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করে।

নিহতের পরিচয় ও পুলিশের তদন্ত

নিহত রাকিবুল ইসলাম ভোলা সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতা তারিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী। রাকিবুল ছিলেন রাজধানীর বোরহানউদ্দিন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ এখনও এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে এবং তদন্ত জোরদার করেছে।

এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার প্রশংসনীয় হলেও, রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় এমন সহিংসতা নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই মামলার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং আরও তথ্য পাওয়া মাত্রই জনগণকে অবহিত করা হবে।