চুয়াডাঙ্গায় পিতার নৃশংস পরিকল্পনা: নিজ সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি
চুয়াডাঙ্গায় পিতার অপহরণ কাণ্ড, শিশু উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গায় পিতার নৃশংস পরিকল্পনা: নিজ সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় এক মর্মান্তিক অপহরণ মামলায় পুলিশ শিশুটির বাবা ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আট বছর বয়সী শিশু সিয়ামকে অপহরণ করে প্রবাসী মায়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার পাকা গ্রামের দাসপাড়া থেকে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও অপহরণের পেছনের কারণ

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মোড়াকাটি গ্রামের বাসিন্দা ও শিশুটির বাবা আজিজুল হক (২৮) এবং তাঁর সহযোগী জীবননগর উপজেলার দক্ষিণপাড়ার আকতার হোসেন (২৬)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিয়ামের মা প্রবাসে থাকেন বলে শিশুটি নানার বাড়ি জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া এলাকায় বসবাস করছিল।

মাদকাসক্তির কারণে আজিজুলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই পরিস্থিতিতে স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি নিজের ছেলেকেই অপহরণের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত সোমবার বিকেলে শিশুটিকে নানার বাড়ি থেকে কৌশলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

মুক্তিপণ দাবি ও হুমকির বিবরণ

অপহরণের পর শিশুটিকে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ছবি তুলে তা প্রবাসী মায়ের কাছে পাঠানো হয়। এই সময় ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়।

শিশুটির মা বিষয়টি তাঁর ভাইকে জানান এবং জীবননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে থানার পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথভাবে অভিযান চালায়।

অভিযান ও শিশু উদ্ধার

যৌথ অভিযানে গত মঙ্গলবার রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একই সময়ে দুই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠানো টাকা ও একটি ধারালো হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিশুটি সুস্থ আছে বলে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শিশু অধিকার সংগঠনগুলো এই ধরনের নৃশংস ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহ এই ধরনের অপরাধের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।