আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামিনের বিনিময়ে কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ তদন্তে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে জামিনের বিনিময়ে কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তথ্যানুসন্ধানে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর কমিটির প্রধান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁরা তদন্তের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, তবে বিষয়গুলো এখনই প্রকাশ করবেন না।
তদন্তের অগ্রগতি ও গোপনীয়তা
কমিটি প্রতিদিনই কাজ করছে এবং যতগুলো ইস্যু আছে, সব নিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম। সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং অভিযুক্ত পদত্যাগী প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারকে কমিটি ডাকবে কি না, সেসব বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এই গোপনীয়তা তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযোগের পটভূমি ও কমিটি গঠন
জামিনের জন্য এক কোটি টাকা চান প্রসিকিউটর শিরোনামে গত ১০ মার্চ প্রথম আলো ও নেত্র নিউজের যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করে। সেদিনই ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি প্রথম বৈঠক করে ১১ মার্চ।
চিফ প্রসিকিউটর ছাড়া এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন:
- প্রসিকিউটর মো. আবদুস সোবহান তরফদার
- মার্জিনা রায়হান (মদিনা)
- মোহাম্মদ জহিরুল আমিন
- চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের সিনিয়র আইন গবেষণা কর্মকর্তা মো. ছিফাত উল্লাহ
আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আমিনুল ইসলাম, আবদুস সোবহান, মার্জিনা রায়হান ও জহিরুল আমিন।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ
প্রথম আলো ও নেত্র নিউজের অনুসন্ধানে উঠে আসে, গত ৯ মার্চ পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি চট্টগ্রাম-৬ আসনের (রাউজান) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন। এই অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে একটি বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং তাৎক্ষণিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ।
