ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক হত্যা মামলায় আরও একজনের গ্রেপ্তার, মোট গ্রেপ্তার ২৬
ভালুকায় পোশাকশ্রমিক হত্যায় আরও গ্রেপ্তার, মোট ২৬

ভালুকায় পোশাকশ্রমিক হত্যা মামলায় আরও একজনের গ্রেপ্তার, মোট গ্রেপ্তার ২৬

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ভালুকা উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের ফটকের সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির পরিচয় ও ভূমিকা

গ্রেপ্তারকৃত আসামি সোহেল রানা (৩৪) টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝায়াইল এলাকার বাসিন্দা। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সোহেল রানা ১৮ ডিসেম্বর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দীপু চন্দ্র দাসকে ফ্যাক্টরির ফ্লোর থেকে গার্ডরুমে নেওয়ার সময় মারধর করেন। তিনি ফ্যাক্টরির কর্মীদের ভেতরে স্লোগান দিয়ে উত্তেজিত করে উপদ্রুত পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং লাশের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন চালান। এছাড়া, তিনি উপস্থিত জনতাকে স্লোগান দিয়ে বর্বরোচিত নির্যাতন চালানোয় উৎসাহিত করেন।

মামলার বর্তমান অবস্থা ও তদন্তের অগ্রগতি

এ নিয়ে দীপু হত্যা মামলায় মোট ২৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানার নাম প্রকাশ করেছেন। ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়, যা এই ধারাবাহিক গ্রেপ্তারের দিকে পরিচালিত করেছে।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও মামলার সূত্রপাত

ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে কারখানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, যা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।

পুলিশের তদন্ত দল নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং আরও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আশা জাগাচ্ছে।