ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে আটকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশের গাড়িতে তেল ভরার জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জুয়েল খান পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তবে আখাউড়া থানার ওসি মো. জাবেদ উল আলম অভিযোগটি মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহর থেকে মালামাল কিনে ফেরার পথে আখাউড়া কুমার পাড়া এলাকায় সাব ইন্সপেক্টর সুমন ব্যবসায়ী জুয়েল খানের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। জুয়েল খান আখাউড়া সড়ক বাজারের আরাধনা স্টোরের স্বত্বাধিকারী এবং ঈদ উপলক্ষে দোকানের জন্য বাচ্চাদের খেলনা, চুরি, চুলের বেন, চশমা ইত্যাদি মালামাল কিনে সিএনজি করে ফিরছিলেন।
জুয়েল খানের বর্ণনায়, কুমার পাড়া রেলক্রসিং এলাকায় এসআই সুমন তার সিএনজি থামিয়ে মালামাল চেক করে ক্রয়ের রশিদ দেখতে চান। কাগজপত্র দেখানোর পরও তিনি টাকা দাবি করেন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখেন। পরে জুয়েল খানের চাচা ও আখাউড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার খান ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
ব্যবসায়ী জুয়েল খান শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “৩৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করি, এমন হয়রানি কখনো দেখিনি।” অন্যদিকে, আক্তার খান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআই সুমনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি টাকা চাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়।
আখাউড়া থানার ওসি মো. জাবেদ উল আলম বলেন, “পুলিশ মালামাল চেক করতেই পারে, কিন্তু টাকা চাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। আমার মনে হয়, মালামাল চেক করায় ব্যবসায়ী ক্ষুব্ধ হয়ে এই অভিযোগ করেছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে টাকা চাইলে পাঁচ হাজার টাকার বদলে আরও বেশি চাওয়া যেত।
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আক্তার খান বলেন, “পুলিশ মানুষকে এভাবে হয়রানি করলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।” এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।
পুলিশ কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে, তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনা পুলিশ-জনতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
