চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনারকে অবমাননার নোটিশ: অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য
চট্টগ্রাম ডিসিকে অবমাননার নোটিশ, ইটভাটা বন্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য

চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনারকে অবমাননার নোটিশ

চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়াকে অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না করায় এই নোটিশ দিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনের আইনজীবী।

নোটিশ পাঠানোর কারণ

সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মুরশিদ মঙ্গলবার ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন। তিনি পরবর্তীতে জানান, মানবাধিকার ও শান্তি বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ২০২০ সালে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল। মিডিয়া রিপোর্টে উঠে আসে যে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শত শত অবৈধ ইটভাটা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

মামলার শুনানির পর একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না হওয়ায় ২০২১ সালে এইচআরপিবি একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করে। এতে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের নির্দেশনা ও বাস্তবায়ন

আদালতের নির্দেশনার পর প্রায় একশটি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে ফেলা হয় এবং আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ১৩ জুন, তৎকালীন চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে বাকি ইটভাটা বন্ধের অঙ্গীকার করেন।

মনজিল মুরশিদ আরও যোগ করেন, বারবার আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও সম্প্রতি মিডিয়া রিপোর্টে উঠে এসেছে যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় আগে বন্ধ করা অনেক ইটভাটা আবার চালু হয়েছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

মিডিয়া রিপোর্ট ও বর্তমান অবস্থা

১৪ নভেম্বর প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহাগাড়া উপজেলার ৩৮টি ইটভাটার মধ্যে ৩৭টিরই লাইসেন্স নেই। এছাড়াও সাতকানিয়া, রাউজান, ফটিকছড়ি, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলায় শত শত ইটভাটা আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে চলছে বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বর্তমান চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়াকে অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে সব ইটভাটা বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইনজীবী জানান, তা না হলে হাইকোর্টে তার বিরুদ্ধে অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে।

এই ঘটনায় পরিবেশ দূষণ রোধে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ ইটভাটার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত সমস্যার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন।