গোপালগঞ্জে আইফোনের লোভে ১৪ বছরের কলেজ ছাত্রকে হত্যা, চার বন্ধু সন্দেহভাজন
আইফোনের লোভে কলেজ ছাত্র হত্যা, গোপালগঞ্জে গ্রেফতার দুই

গোপালগঞ্জে আইফোনের লোভে ১৪ বছরের কলেজ ছাত্রকে হত্যা, চার বন্ধু সন্দেহভাজন

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় স্তম্ভিত। আইফোন ও নগদ টাকার লোভে ১৪ বছরের এক কলেজ ছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই চার বন্ধুর বিরুদ্ধে। পুলিশ ইতিমধ্যে দুই কিশোরকে গ্রেফতার করেছে এবং বাকি সন্দেহভাজনদের ধরতে তদন্ত ত্বরান্বিত করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও লাশ উদ্ধার

সোমবার (৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রাম এলাকার একটি পুকুর থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে গুম করে রাখা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নিহত ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়েছে সিয়াম মোল্যা নামে ১৪ বছর বয়সী এক কলেজ ছাত্র হিসেবে, যিনি মুকসুদপুর কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন।

সিয়ামের বাবা লিখন মোল্যা ইতালি প্রবাসী এবং মা মারা যাওয়ায় তিনি ঝুটিগ্রামের নানা বাড়িতে থাকতেন। গত ৭ মার্চ থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়। পুকুর থেকে দুর্গন্ধ ভেসে আসার পর স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

হত্যার পেছনের কারণ ও গ্রেফতার

মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে সিয়ামের কাছে একটি আইফোন ও কিছু নগদ টাকা ছিল। তার চার বন্ধু মাদকের টাকা জোগাড় করার উদ্দেশ্যে ফোনটি বিক্রি ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার (৭ মার্চ) তারা সিয়ামকে হত্যা করে এবং লাশটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে।

এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে দুই কিশোরকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ঝুটিগ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে দিদার (১৪) এবং বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের টিটুল মুন্সীর ছেলে পারভেজ (১৫)। এছাড়া, বাঁশবাড়িয়া এলাকার ইউপি সদস্য রিপনের ছেলে সাজিদ এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি

এই হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসী গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে কিশোর বয়সে এমন নৃশংসতা সম্ভব হয়। পুলিশ বলছে, তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আশা করছে, শীঘ্রই বাকি আসামিদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনা সমাজে ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতা ও যুবকদের মধ্যে মাদক ও লোভের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ট্র্যাজেডি রোধ করা যায়।