জাতীয় গুম মামলায় ব্যারিস্টার আরমানের দ্বিতীয় দিনের জেরা আজ
গুম মামলায় ব্যারিস্টার আরমানের দ্বিতীয় দিনের জেরা

জাতীয় গুম মামলায় ব্যারিস্টার আরমানের দ্বিতীয় দিনের জেরা আজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানের দ্বিতীয় দিনের জেরা আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হবে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জন গ্রেফতার অবস্থায় রয়েছেন।

জেরার বিস্তারিত প্রক্রিয়া

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজকের জেরা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে আইনজীবী তাবারক হোসেন ও অন্যান্যরা জেরা করবেন। এরপর স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা তাদের পক্ষে জেরা চালাবেন।

প্রথম দফার জেরার ঘটনা

গত ৮ মার্চ প্রথম দফার জেরায় কর্নেল কেএম আজাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো দাবি করেন যে, ব্যারিস্টার আরমানকে কোনো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গুম করেনি; বরং তিনি আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি আরমানের বই ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’-এ বর্ণিত তথ্যও মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। সাক্ষী জবাবে এসব দাবি সত্য নয় বলে জানান।

আরমানের পূর্ববর্তী সাক্ষ্য

২১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ব্যারিস্টার আরমান। তিনি তার জবানবন্দিতে ২০১৬ সালে গুম হওয়ার পর আট বছরের ভয়াবহ গুমজীবনের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন, যা ট্রাইব্যুনালের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের তালিকা

এ মামলায় গ্রেফতার ১০ আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম
  • কর্নেল কেএম আজাদ
  • কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন
  • কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে)
  • র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান
  • লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন
  • লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা ছাড়াও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

মামলার গুরুত্ব ও প্রভাব

এই মামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ও আইনগত মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রক্রিয়া দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।