টাঙ্গাইলে শিশু জুয়েল হাসান হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আব্দুর রহিমকে খালাস দিল হাইকোর্ট
টাঙ্গাইলে শিশু জুয়েল হাসান হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি আব্দুর রহিমকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (৮ মার্চ) বিচারপতি মহিউদ্দীন শামীম ও বিচারপতি জেসমিন আরা বেগমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মুজিবুর রহমান।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের তৎপরতা
আসামিপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফজলুল হক খান ফরিদ। তাকে সহযোগিতা করেন শেখ মো. শামসুজ্জামান পাপ্পু, মোহাম্মদ আবুল হাসনাত ও সেতু খান। আইনজীবীদের যৌথ প্রচেষ্টায় আসামির পক্ষে শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করা হয়, যা হাইকোর্টের রায়ে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পটভূমি ও আদালতের পূর্ববর্তী রায়
২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর টাঙ্গাইলের সদর থানা এলাকার এক ধর্মীয় সভা থেকে রাত ১০টার পর শিশু জুয়েল হাসান নিখোঁজ হয়ে যায়। পরবর্তী দিন সকালে তার মরদেহ ধর্মীয় সভার পাশের একটি ধান খেতে পাওয়া যায়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পরে ওই ঘটনায় পুলিশ আসামি আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করে তার স্বীকারোক্তি জবানবন্দি নেয়। মামলার বিচার শেষে টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা আদালত মামলার একমাত্র আসামি আব্দুর রহিমকে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেয়। আদালতের রায়ে শিশু হত্যার ঘটনায় কঠোর শাস্তির নির্দেশনা ছিল।
হাইকোর্টে আপিল ও চূড়ান্ত রায়
পরে আসামি আব্দুর রহিম সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে। আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট আসামিকে খালাস দিলো। হাইকোর্টের রায়ে আদালতের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত উল্টে দেওয়া হয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় শিশু হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই হাইকোর্টের রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন এই রায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে।



