সুনামগঞ্জে যুবককে মাদক কারবারি সাজিয়ে মামলা: মাত্র ১৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানায় পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে মাত্র ১ পুরিয়া বা ১৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে এক যুবককে মাদক কারবারি সাজিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে যখন পরিবার দাবি করেছে যে যুবকটি শুধু মাদকসেবী ছিলেন, বিক্রেতা নন।
মামলার বিবরণ ও অভিযানের ঘটনা
শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় তাহিরপুর থানার এসআই পংকজ দাশ তিন কনস্টেবলসহ চার সদস্যের একটি দল নিয়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযানে উপজেলা সদরের মধ্য তাহিরপুরের যুবক আমান উল্লাহর কাছ থেকে ১ পুরিয়া গাঁজা জব্দ করা হয়। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং রাতে এসআই পংকজ দাশ নিজেই বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আমান উল্লাহকে মাদক বিক্রেতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও আইনজীবীর বক্তব্য
রোববার সন্ধ্যায় গ্রেফতার আমান উল্লাহর পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, বরং পরিবারের নিষেধ সত্ত্বেও মাঝে মাঝে নেশা করতেন। তারা অভিযোগ করেন যে পুলিশ তাকে রাস্তা থেকে আটক করে মাত্র ১৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ দেখিয়ে মাদক কারবারি সাজিয়ে মামলা দায়ের করেছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী শাহ আলম তুলিপ বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য করেন, "এটি যদিও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ, কিন্তু মাত্র ১৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে একজন মাদকসেবীকে মাদককারবারি সাজানো যুক্তিযুক্ত নয়। পুলিশের উচিত ছিল তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা, জটিল মামলা দায়ের না করা।"
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া
মামলার বাদী এসআই পংকজ দাশ দাবি করেন যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আমান উল্লাহকে মাদক মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।" তবে, এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে যে ছোট পরিমাণ মাদক জব্দের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা কতটা ন্যায্য এবং এটি কি মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ, নাকি অপব্যবহারের উদাহরণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই মামলাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতির কার্যকারিতা এবং পুলিশের অভিযান পদ্ধতি সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাদক সমস্যা মোকাবেলায় সঠিক আইনি কাঠামো এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যাতে নিরপরাধ ব্যক্তিরা জড়িয়ে না পড়েন।



