রাজশাহীতে শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতা গ্রেপ্তার
রাজশাহীতে শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতা গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে এক কলেজশিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানববন্ধন করে দুই নেতার ছাত্রত্ব স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণ ও ঘটনার ক্রম

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জুয়েল রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। গ্রেপ্তারকৃত দুই নেতা হলেন শাহ মখদুম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ ওরফে শিহাব এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ওরফে চন্দন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে এই দুই ছাত্রদল নেতা শিক্ষক আসাদুজ্জামানের কাছে চাঁদা দাবি করছিলেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২৬ নভেম্বর তাঁরা তাঁকে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পরে ৪ মার্চ নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় তাঁর বাসার সামনে একা পেয়ে তাঁরা তাঁকে মারধর করেন। এই সময় তাঁকে আবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

শিক্ষকের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই ছাত্রদল নেতা তাঁকে চড়থাপ্পড় ও মারধর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ৫ মার্চ এই মারধরের ঘটনার পর শিক্ষক থানায় মামলা করেন।

শিক্ষক ও কর্মচারীদের মানববন্ধন

শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে শাহ মখদুম কলেজের প্রধান ফটকের সামনে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে তাঁরা দুই ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানান।

এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, শিক্ষাঙ্গনে এমন ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা উচিত। তাঁরা কলেজ প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ

গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নগরের নিউমার্কেট এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদল নেতা মারুফ ও সুফিয়ান। সেখানে তাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তাঁদের দাবি, ওই শিক্ষক আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং দীর্ঘদিন ধরে দলটির পক্ষে কাজ করে আসছেন। এ ছাড়া তিনি নিয়মিত কলেজে দায়িত্ব পালন করেন না এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

বোয়ালিয়া মডেল থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, "চাঁদা দাবি ও শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় মামলার পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।" তিনি আরও জানান, তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই ঘটনা রাজশাহীর শিক্ষা সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশের দাবি জানাচ্ছেন। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এমন ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা অন্যান্য অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তারা।

বর্তমানে দুই অভিযুক্ত কারাগারে রয়েছেন এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।