ঢাবি শিক্ষার্থীসহ দুইজনকে আটক: ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোয় পুলিশের অভিযান
রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সাউন্ড বক্সে বাজানোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ দুইজনকে আটক করেছে শাহবাগ থানার পুলিশ। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে এবং ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত সাউন্ড বক্সটিও পুলিশ জব্দ করে নেয়।
আটক শিক্ষার্থীর পরিচয়
আটক শিক্ষার্থীর নাম আসিফ আহমেদ বলে জানা গেছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। তাঁর সঙ্গে সাউন্ড বক্স পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আরেকজনের পরিচয় এখনো অজানা রয়ে গেছে।
পুলিশের বক্তব্য
তাঁদের আটকের বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'ওটা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাচ্ছিল। এটা তো নিষিদ্ধ, এ জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।' এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ এসেছিল কি না, জানতে চাইলে ওসি বলেন, 'অভিযোগ দিচ্ছে বলেই তো তারে নিয়ে আসা।' পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এত তাড়াতাড়ি যদি সিদ্ধান্ত জানতে চান তাইলে কেমনে দিব? এটা আমাদের সিদ্ধান্তের বিষয় আছে। নিয়ে আসছি, স্যারের সাথে আলোচনা করি, তারপর বলতে পারব।'
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৭ মার্চ উপলক্ষে চানখাঁরপুল এলাকায় সাউন্ড বক্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ বাজাচ্ছিলেন আটক ওই শিক্ষার্থী। যখন ভাষণের বিখ্যাত অংশ 'এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম' শোনা যাচ্ছিল, তখন কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। তাঁদের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর কিছুক্ষণ কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে একটি অটোরিকশায় তুলে থানায় নিয়ে যায়। বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থী থানাতেই আটক ছিলেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ভাষণটি দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তার দুই সপ্তাহ পর ২৬ মার্চ এলেও তাঁর সেই ভাষণেই ছিল দিকনির্দেশনা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ঘটা করে ৭ মার্চ পালন করা হতো। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম রয়েছে নিষিদ্ধ।
