জুলাই আন্দোলনের মামলায় সৈয়দ আশিক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি: পুলিশ
জুলাই আন্দোলন মামলায় সৈয়দ আশিক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না

জুলাই আন্দোলনের মামলায় সৈয়দ আশিক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি: পুলিশের প্রতিবেদন

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরটিভির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আবুল হাসান তাকে মামলা থেকে সাময়িক অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল হাসান জানান, তিনি গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর আনা অভিযোগ প্রমাণের স্বপক্ষে প্রাথমিকভাবে সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এবং ঘটনার সঙ্গে সৈয়দ আশিক রহমানের সম্পৃক্ততার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (এ) ধারা মোতাবেক তাকে মামলার দায় থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই একই মামলায় আরও কয়েকজন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলাটির পটভূমি হলো, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে পল্টনের কাকরাইল মোড় সংলগ্ন এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সাইফুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।

মামলার বিস্তারিত ও অন্যান্য আসামি

এই ঘটনায় সাইফুল ইসলামের চাচাতো ভাই পরিচয় দিয়ে রফিকুল ইসলাম বেপারী গত বছরের ১৬ মার্চ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬৬ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে সৈয়দ আশিক রহমানকে ১৩১ নম্বর আসামি করা হয়েছিল। মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, দীপু মনি, এম এ আরাফাত, শাহরিয়ার আলম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপস, আতিকুল ইসলাম, শেখ সেলিম, হাজী সেলিম, বাহাউদ্দিন নাসিম, নজরুল ইসলাম বাবু, নূর নবী চৌধুরী শাওন, আফজাল হোসেন, মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিমসহ উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি।

এ বিষয়ে বাদী রফিকুল ইসলাম বেপারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার মতে, তিনি সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করেছেন। এখন আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।