বগুড়া সহিংসতা মামলায় সাবেক এমপি বদির জামিন স্থগিত, ৯ মার্চ শুনানি নির্ধারণ
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় বগুড়ায় সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগে করা এক মামলায় কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি আগামী ৯ মার্চ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের আবেদন
এর আগে জামিন চেয়ে বদির করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে, যা এখন চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান, যারা মামলার আইনি দিকগুলো উপস্থাপন করেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, "বগুড়ায় সহিংসতার অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি ৯ মার্চ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।" এই বক্তব্য মামলার বর্তমান অবস্থানকে স্পষ্ট করে তোলে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বগুড়ায় সহিংসতার ঘটনায় আবদুর রহমান বদিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় তাঁকে অর্থের জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা অভিযোগের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে র্যাব আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার করে। তখন জানানো হয়, কক্সবাজারের টেকনাফে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি জটিলতা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আবদুর রহমান বদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর পরিবর্তে স্ত্রী শাহীন আক্তারকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি দুই দফায়ই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যা রাজনৈতিক পরিবারের টিকে থাকার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হয়। এই মামলাটি তাঁর আইনি সংকটের ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মামলার শুনানি ও সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জবাবদিহিতার জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে। আগামী ৯ মার্চের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও প্রতিবাদী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।
