সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত স্থগিত করল সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ পৃথক পাঁচটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। বৃহস্পতিবার চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই আদেশ প্রদান করেন। আদালত একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগামী ৯ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করেছেন, যা আইভীর আইনি লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আইভীকে এই পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছিল, কিন্তু পরে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান। অন্যদিকে, আইভীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম সুমন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করার জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম। আদালত ৯ মার্চ পর্যন্ত জামিন স্থগিত করে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন।” এই মন্তব্য আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও গুরুত্ব তুলে ধরে।
মামলার পটভূমি ও আইভীর গ্রেপ্তার
আইভীর বিরুদ্ধে এই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি হত্যা মামলা করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায়, এবং আরেকটি মামলা করা হয়েছে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায়। অধস্তন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর আইভী হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন, যা এখন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে স্থগিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখায়, যা এই মামলাগুলোর তীব্রতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে।
এই ঘটনাটি আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। আগামী ৯ মার্চের শুনানিতে আদালতের সিদ্ধান্ত আইভীর ভবিষ্যৎ এবং এই মামলাগুলোর দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
