রাজশাহীতে মোবাইল কোর্টের অভিযান: স্যানিটারি ন্যাপকিন ও দই কারখানায় জরিমানা
রাজশাহী মহানগরীর পবা উপজেলায় বুধবার জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) যৌথ উদ্যোগে একটি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে উৎপাদিত পণ্য বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন
অভিযানের সময় পবা উপজেলার বায়া বাজারে অবস্থিত এম/এস এনএস মেডিকেল ইন্টারন্যাশনাল নামক প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই অনুমোদন এবং পণ্য প্যাকেজিং নিবন্ধন সার্টিফিকেট ছাড়াই স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন ও প্যাকেজিং করার জন্য ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের নির্দেশে স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদনে ব্যবহৃত সমস্ত কাঁচামাল জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মোমিন বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া ভবিষ্যতে এই ধরনের পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় বা বিতরণ না করার জন্য একটি লিখিত অঙ্গীকারনামাও প্রদান করেছেন। এই পদক্ষেপটি ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
একই এলাকার এম/এস বন্ধন দই ঘর নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআইয়ের গুণগত মানের সার্টিফিকেশন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই উৎপাদন ও বিক্রয় করার জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটিও ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা মোবাইল কোর্টের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
মোট দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকারি তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের অভিযান ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং বাজারে মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই মোবাইল কোর্টটি পবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহদি হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। বিএসটিআই রাজশাহী অফিসের সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি) আজিজুল হাকিমের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা এই অভিযানে সহায়তা প্রদান করেছেন।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। ভবিষ্যতেও রাজশাহীসহ সারাদেশে অনুরূপ অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে, যাতে করে বাজারে নিম্নমানের বা অননুমোদিত পণ্যের প্রবেশ রোধ করা যায়। এই পদক্ষেপগুলি ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
