সাতক্ষীরায় শিক্ষক লাঞ্ছনা মামলায় জামায়াত নেতা-শিক্ষক কারাগারে
শিক্ষক লাঞ্ছনা মামলায় জামায়াত নেতা কারাগারে

সাতক্ষীরায় শিক্ষক লাঞ্ছনা মামলায় জামায়াত নেতা-শিক্ষক কারাগারে

সাতক্ষীরায় একটি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে চেয়ার দখলের ঘটনায় করা মামলায় সহকারী শিক্ষক ও স্থানীয় জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনার বিবরণ ও মামলার প্রক্রিয়া

ভুক্তভোগী মো. জামিলুজ্জামান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। মামলার আসামি এ কে এম আজহারুজ্জামান একই ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে একদল বহিরাগত নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন আজহারুজ্জামান। তারা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামানকে কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ওই বছরের ১৯ নভেম্বর জামিলুজ্জামান সাতক্ষীরার আদালতে মামলা করেন। আদালত বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)।

সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মাছুদ পারভেজ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর আজহারুজ্জামানসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর আগে অভিযুক্ত আজহারুজ্জামান উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ পান। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নাকচ করে দেন।

বিদ্যালয়ের পটভূমি ও আইনজীবীর বক্তব্য

মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, জামিলুজ্জামান ২০০২ সাল থেকে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত এবং বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মুজিদ জানান, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা ও অবৈধভাবে চেয়ার দখল করার বিষয়টি সিআইডির তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে।

এই মামলাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকটি সামনে এনেছে। আদালতের সিদ্ধান্তে ভুক্তভোগী পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে আসামি পক্ষ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।