আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ: শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে না পাওয়ায় আদালত এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য ও আদালতের সিদ্ধান্ত
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির অগ্রগতি নিয়ে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করেন। প্রসিকিউটর জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে তাদের খুঁজে পাননি। এই প্রেক্ষাপটে ১২ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও আসামিদের পরিচয়
এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমান। তবে তদন্তের স্বার্থে মামলার বাকি ১০ আসামির নাম এখনও প্রকাশ করেনি প্রসিকিউশন। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এই ১২ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা-সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যা করে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অভিযুক্ত আসামিরা সবাই অস্ত্রধারী ছিলেন। তাই শামীম ওসমানসহ ১২ জনকে আসামি করে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়।
আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রভাব
আদালতের এই নির্দেশ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে আসামিদের হাজির করতে বাধ্য করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, এই মামলাটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। প্রসিকিউশন পক্ষের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে, এবং আগামী ১৫ মার্চের শুনানিতে আরও তথ্য উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
