শরীয়তপুরে পীর গ্রেপ্তার: বাবুর্চি হত্যা মামলায় সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়লেন
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় সুরেশ্বর দরবার শরিফের একজন গদিনশিন পীর তৌহিদুল হোসাইন ওরফে শাহীন নূরীকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার ভোরে দরবার শরিফে তাঁর আস্তানা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নড়িয়া থানা–পুলিশ। দরবারের বাবুর্চি জয়নাল সরদার হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
হত্যা মামলার পটভূমি
গত বছরের অক্টোবর মাসে নড়িয়ার ইছাপাশা এলাকার বাসিন্দা জয়নাল সরদারের মরদেহ একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি সুরেশ্বর দরবার শরিফের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রান্নাবান্নার কাজ করতেন এবং কাজ না থাকলে এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত বছরের ২২ অক্টোবর জয়নাল বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন এবং ২৪ অক্টোবর তাঁর বস্তাবন্দী লাশ নড়িয়ার আটপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন জয়নালের মেয়ে ইশা আক্তার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দরবার শরিফের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, ২৩ অক্টোবর রাত ২টার দিকে দরবার শরিফের গদিনশিন পীর তৌহিদুল হোসাইন ওরফে শাহীন নূরীর আস্তানার সামনে শাহীন নূরী ও আরেক ব্যক্তি ঘোরাফেরা করছেন। কিছুক্ষণ পর শাহীন নূরী সেখানে একটি গাড়ি নিয়ে আসেন এবং সেই গাড়িতে একটি বস্তা তোলা হয়। পরে গাড়ি নিয়ে শাহীন নূরী দরবারের রাস্তা ধরে বের হয়ে যান।
গ্রেপ্তার ও জব্দকৃত সামগ্রী
ওই ভিডিওতে দেখা ব্যক্তি রবিন শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহীন নূরীকে আজ গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় শাহীনের ঘর থেকে একটি চাকু, শটগানের খালি কার্তুজ ১৩৩টি, হার্ডড্রাইভ ৬টি, এসএসডি ১টি, ওয়াকিটকি সেট ৪টি, ডিভিআর ১টি, অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন ৩টি, বাটন মুঠোফোন ৪টি, রাইফেল ২টি, শটগানের বিভিন্ন অংশ ও শটগানের বাক্স জব্দ করা হয়।
জয়নালের মেয়ে ইশা আক্তার বলেন, ‘আমার বাবাকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য বস্তায় ভরে ফেলে রাখা হয়েছিল। পুলিশ আজ সকালে ফোন করে জানিয়েছে, বাবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীর শাহীন নূরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
পুলিশের বক্তব্য
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, সুরেশ্বর দরবার শরিফের একজন ভক্ত ও বাবুর্চির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখে দরবার শরিফের একজন পীরকে ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পান। ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে সুরেশ্বর এলাকায় সুরেশ্বর দরবার শরিফ অবস্থিত এবং শাহীন নূরী ওই দরবার শরিফের একটি আস্তানা পরিচালনা করেন। তিনি দরবারের গদিনশিন পীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।
